শিরোনাম:
ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ১ আষাঢ় ১৪২৮

Natun Khabor
মঙ্গলবার ● ২ জুন ২০২০
প্রচ্ছদ » পটুয়াখালী » রাজমিস্ত্রির ফাঁকে ফাঁকে পড়াশোনা করেছি
প্রচ্ছদ » পটুয়াখালী » রাজমিস্ত্রির ফাঁকে ফাঁকে পড়াশোনা করেছি
৩০১ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ২ জুন ২০২০
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

রাজমিস্ত্রির ফাঁকে ফাঁকে পড়াশোনা করেছি

---
মো. মামুন। এলাকায় সবাই ইমারত নির্মাণ শ্রমিক বা রাজমিস্ত্রি হিসেবে চেনে। এ কাজ করে একদিকে সংসার, অন্যদিকে নিজের লেখাপড়ার খরচ যোগিয়ে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। রবিবার প্রকাশিত হয় ওর এসএসসির ফলাফল। মামুন এখন বেজায় খুশি। সংসারে চাহিদা আর লেখাপড়ার খরচের অভাব থাকলেও মামুন উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে চায়।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের গেরাখালী গ্রাম এলাকার বাসিন্দা কৃষক আব্দুল বারেক মাতুব্বরের ছেলে মামুন। ২০১৫ সালে দক্ষিণ গেরাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৪.৫০ ফলাফল অর্জন করে মামুন। সংসারে এক ভাই এক বোন, মা এবং অসুস্থ বাবা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে বাবা আব্দুল বারেক মাতুব্বর কাজ করতে পারে না। তাই পঞ্চম শ্রেণি পাশের পর এগিয়ে যাওয়া ওর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়ায়। অভাবের কারণে পরিবার থেকে মামুনের জন্য লেখাপড়ার পরির্বতে সংসারের ব্যয় মিটাতে কাজ করার তাগিদ বাড়ে। কিন্তু মামুনের লেখাপড়া করার খুবই ইচ্ছা। তাই যোগ দেয় রাজ জোগালি কাজে (রাজ মিস্ত্রির সহকারী)। দৈনিক ৪৩০ টাকা হাজিরা। কয়েকদিন কাজ করার পর মামুন সংসারের অভাব মিটিয়ে ওই আয় থেকে টাকা সঞ্চয় করে ষষ্ঠ শ্রেণিতে নিজেই ভর্তি হয় মরিচবুনিয়া টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে। বন্ধের দিনগুলোতে দৈনিক হাজিরায় নিয়মিত কাজ করত। আবার সংসারের অভাব মিটাতে প্রায়ই ক্লাসের পরির্বতে ইমারত নির্মাণ শ্রমিকের কাজই করতে হয়েছে মামুনকে। অভিজ্ঞতা হওয়ায় শ্রমিক থেকে রাজমিস্ত্রি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। আয়ও বাড়ে। এভাবেই এসএসসি পাস পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে মামুন।

ফলাফল প্রকাশের পর মামুন ওর শিক্ষা জীবন সম্পর্কে বর্ননা করতে গিয়ে আনন্দে কেঁদে ওঠে। মামুন জানায়, ‘সন্ধ্যা ৬ টায় কাজ শেষ বাড়ি ফিরে রাত ৮ টায় বই খাতা নিয়ে পড়ার টেবিলে। বই পুস্তকের সাথে মিতালি কোনো দিন রাত ১২টা আবার কখনও রাত ১টা। এ ছাড়া আর বই নিয়ে বসা হয়নি মানুনের। বাবা ছোট বেলা স্কুলে ভর্তি করেছিল। বাবা মায়ের ইচ্ছা ছিল আমি লেখাপড়া শিখব। বাবার অসুস্থতার পর সবাই চাইছে কাজ করে সংসার চালাই। কিন্তু কাজ ঠিকই করেছি সংসারও চালিয়েছি আবার লেখাপড়াও করেছি। বাড়তি করেছি লেখাপড়া। সফলও হয়েছি।’

মামুন আরো জানায়, ‘আমি যে কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি, তার ফল আল্লাহ আমাকে দিয়েছে। স্যারেরা আমাকে সহযোগিতা করেছে। যখন যে পড়াটা না বুঝতাম স্যারদের স্মরণাপন্ন হলে সব স্যারই আমাকে সহযোগিতা করেছে। আমি স্যারদের কাছে কৃতজ্ঞ। এ কাজ করেচেষ্টা করবো উচ্চ শিক্ষা অর্জনের আল্লাহ যেই পর্যন্ত পৌঁছায়। চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা সমাপ্ত করতে পারলে শিক্ষকতা করার খুব ইচ্ছা রয়েছে। আমার মতো গরিব অভাবি ছেলে মেয়েদের পাশে দাঁড়িয়ে সাধ্য অনুযায়ী ওদের শিখাতে চাই।

মা কহিনুর বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী কোনো কাজ করতে পারে না। পোলাডা ল্যাহ্যাপড়ায় (পড়াশোনায়) ভালো, অয় (ও)নিজে ল্যাহ্যাপড়া কইরগা এই পর্যন্ত আইছে। কাম কইরগা সংসার চালাইছে আবার নিজের ল্যাহ্যাপড়ার খরচা জোগাইছে।’

মামুনের ইমারত নির্মাণ শ্রমিকের ওস্তাদ মো. নজরুল ইসলাম মিস্ত্রি বলেন, ‘মামুন ফাইভ ক্লাসে থাকতেই আমার লগে (সাথে) রাজ জোগালির কাজ করছে। ও ল্যাহ্যাপড়ায় অনেক ভালো। জিপিএ-৫ পেইছে আমি খুবই খুশি অইছি। করোনাভাইরাসের কারণে কাজ বন্ধ, আমরাও বেকার। মামুনেরও আয় বন্ধ। এরমধ্যে ভর্তি শুরু অইলে পোলাডা সমস্যায় পড়বে। এখন তো সংসারে এমনিতেই ওর ব্যামালা (অনেক) অভাব। শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে ওকেকেউ টাহা দিয়া সাপোর্ট দিলে ছেলেটা অনেক দূর যাইতে পারতে।’

মরিচবুনিয়া টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ৫৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে আমার বিদ্যালয় থেকে। এরমধ্যে ৫১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, চার জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এরমধ্যে মামুনও জিপিএ-৫ পেয়েছে। শিক্ষার্থী মামুনের পাশে সমাজের ধনবানরা দাঁড়ালে শিক্ষার্জনে মামুন এগিয়ে যেতে পারবে। মামুন ছাত্র হিসাবে অনেক ভালো। আর্থিক যোগান পেলে ছেলেটা এগিয়ে যেত অনেক।’





আর্কাইভ

পরীমনির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ
আমি আত্মহত্যা করলে সেটা হবে হত্যা : পরীমনি
পরীমনি জানালেন হত্যা ও ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্তের নাম
পর্যটকদের মন কেড়েছে পাহাড়ি ঝর্ণা
গুনে শেষ করা যাবে না পেয়ারার উপকারিতা!
যে ফলে কমবে ওজন, সারবে ব্রন
যে জেলা যে শ্রেণিতে পড়েছে
বরগুনার মানুষের সুখে দু:খে পাশে থাকতে চাই