শিরোনাম:
ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ১ আষাঢ় ১৪২৮

Natun Khabor
বৃহস্পতিবার ● ২০ আগস্ট ২০২০
প্রচ্ছদ » কক্সবাজার » পর্যটকদের মন কেড়েছে পাহাড়ি ঝর্ণা
প্রচ্ছদ » কক্সবাজার » পর্যটকদের মন কেড়েছে পাহাড়ি ঝর্ণা
২৩৯ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ২০ আগস্ট ২০২০
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

পর্যটকদের মন কেড়েছে পাহাড়ি ঝর্ণা

---
পাহাড়ের বুক চিরে আছড়ে পড়ছে প্রবহমান সুরূল জলধারা। গুড়ি গুড়ি জলকনাগুলো আকাশের দিকে উড়ে গিয়ে তৈরি করছে কুয়াশার আভা। স্রোতধারার কলতানে নিক্কন ধ্বনির উচ্ছ্বাস। শীতলতার পরশ। যেন সবুজ অরণ্যের প্রাণের ছোয়া এঁকেছে কেউ। বলছি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপূর্ব নৈসর্গিক সৃষ্টি রাঙামাটির পাহাড়ি ঝর্ণাগুলোর কথা। সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে এক অন্যরকম রূপ ধারণ করেছে পাহাড়ি ঝর্ণাগুলো। যার টানা প্রতিদিনই স্থানীয় পর্যটকদের ভিড় জমছে ঝর্ণাস্থলে। মন কেড়েছে আশ-পাশে জেলার পর্যটদেরও। ঝর্ণার আকর্ষণ কভিট-১৯ অর্থাৎ করোনার ভয়কেও যেন ম্লান করেছে সবার মধ্যে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি জেলায় অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড়ি ঝর্ণা থাকলেও নয়নাভিরাম ও বিষ্ময়কর প্রাকৃতিক প্রাচুর্য শুধুমাত্র রাঙামাটির বরকল উপজেলার শুভলং ইউনিয়ন ও ঘাগড়া ইউনিয়নে দৃশ্যমান।

রাঙামাটি শহর থেকে ৩০-৩৫কিলোমিটার দূরে বরকল উপজেলার শুভলং ইউনিয়ন। ইঞ্জিন চালিত বোর্ট বা স্পিট বোর্টে যেতে সময় লাগে এক থেকে ২ঘন্টা। অপরূপ কাপ্তাই হ্রদে ভাসতে ভাস দেখা মিলবে অসংখ্য সবুজ পাহাড়। দু’পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে এসেছে ছোট-বড় অন্তত ৮টি ঝর্ণা। এর মধ্যে মূল অর্থাৎ গিরিনির্ঝর ঝর্ণাটি সত্যিই আকর্ষণীয়। প্রায় ৩০০ফুট উঁচু থেকে বর্ষায় জলধারার অবিরাম পতনে সৃষ্ট নিক্কন ধ্বনিসমেত অপরূপ দৃশ্য না দেখলে কল্পনায়ও সে ছবি আঁকা অসম্ভব। বৃষ্টির প্রবল বর্ষণে যখন পাহাড় ফিরে পায় তার নবে যৌবনা। গিরিনির্ঝর ঝর্ণা তখন ফিরে পায় তার আদিরূপ। অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা এ ঝর্ণা সেজেছে নবরূপে। ঝর্না সতেজতায় পাহাড়ি ঝিরিগুলো হয়ে উঠেছে প্রাণচঞ্চল। সাঁই সাঁই করে ধেয়ে চলে ঝিরির জলরাশি মিলেছে হ্রদের প্রাণে। বহু আগেই দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতির বিস্তৃতি ঘটেছে রাঙামাটি শুভলং গিরিনির্ঝর ঝর্ণার। পাহাড়ে ঝর্ণার শীতল ও চঞ্চলা জলধারা সকল পর্যটককেই কাছে টানে সহজে। তাই বর্ষা এলেই ঝর্ণা স্পটে ভিড় জমে দেশি-বিদেশী পর্যটকের। তবে করোনার কারণে এবার বিদেশ কিংবা দেশের অন্যান্য জেলার পর্যটকদের রাঙামাটিতে আগম না থাকলেও ঝর্ণার ভিড় কিন্তু কমেনি। স্থানীয়দের পদাচারণায় মুখর ঝর্ণা স্পটগুলো। যা দেখে হৃদয়-মন জুড়ে সৃষ্টি করে শিহরণ। তবে এ ঝর্ণাকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র করা হলেও রক্ষাণাবেক্ষণের অভাবে মরতে শুরু করেছে শুভলং ঝর্ণাটি।
একই দৃশ্য রাঙামাটির ঘাগড়া কলাবান ঝর্ণার। রাঙামাটি কলা বাগান ঝর্ণা। এটি জেলার কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়ন অবস্থিত। এ ইউনিয়নের আশ-পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য পাহাড়ি ছড়া। এ পাহাড়ি ছড়ার একমাত্র উৎপত্তিস্থল ঘাগড়া ঝর্ণাটি। যা সবার কাছে আপাতত ‘কলাবাগান’ ঝর্ণা নামে পরিচিত। এখানে শুধু দেশি-বিদেশেী পর্যটক নয়, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানসহ আশপাশের জেলার স্থানীয়দের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ারমত। কলা বাগান ঝর্ণা স্থল এখন যেন আনন্দ উৎসবের ফোয়ারা। রাঙামাটি শহরে থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে হলেও গাড়ি থেকে নেমে ছড়ার পথে হাটতে হয় আরও চার কিলোমিটার। কিছুটা সামনে এগুলেই দেখা মিলে ঝর্ণার স্বচ্ছ জল। অসংখ্য ছোট-বড় পথরের গা ঘেষে ধেয়ে চলেছে স্রোতধারা। এ ঝর্ণার শীতলতায় প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠে পর্যটকরা। দুর হয়ে যায় সমস্ত ক্লান্তি। ঝর্ণার পানিতে গা ভিজিয়ে আনন্দে হারিয়ে যাচ্ছে ভ্রমণ পিপাসু নারী-পুরুষ। প্রায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের পদাভারে মুখরিত হয়ে থাকে ঝর্ণা স্পটটি।

ঝর্ণা ঘুরে এসে স্থানীয় পর্যটন মো. তাজুল ইসলাম জানান, তবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকলেও এ পাহাড়ি ঝর্ণাকে ঘিরে এখনো গড়ে উঠেনি কোন পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটকরা বলছেন, এ ঝর্ণা রক্ষণা-বেক্ষণা করা গেলে, এটিকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে রাঙামাটির সম্ভাবনাময় অণ্যতম পর্যটন কেন্দ্র।

রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানান, রাঙামাটির বিভিন্ন পাহাড়ে ছাট-বড় অসংখ্য ঝর্ণা রয়েছে। যা সত্যি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এসব ঝর্ণাগুলো রক্ষণা-বেক্ষণ কার খুবই প্রয়োজন। কারণ অপরিকল্পীত বৃক্ষ নিধনের ফলে পাহাড়ের মূল আকর্ষণ শুভলং ঝর্ণাটি আজ মরতে বসেছে। যার কারণে শুষ্ক মৌসুমে শুভলং ঝর্ণায় পর্যটক কমে যায়।





আর্কাইভ

পরীমনির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ
আমি আত্মহত্যা করলে সেটা হবে হত্যা : পরীমনি
পরীমনি জানালেন হত্যা ও ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্তের নাম
পর্যটকদের মন কেড়েছে পাহাড়ি ঝর্ণা
গুনে শেষ করা যাবে না পেয়ারার উপকারিতা!
যে ফলে কমবে ওজন, সারবে ব্রন
যে জেলা যে শ্রেণিতে পড়েছে
বরগুনার মানুষের সুখে দু:খে পাশে থাকতে চাই