নতুন নেতৃত্ব পেতে অপেক্ষা বাড়ল ছাত্রলীগের!

স্টাফ রিপোর্টার।।
ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব পেতে অপেক্ষা আরও বাড়ল। সংগঠনটির ২৯তম সম্মেলনে নেতা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ না করে ইতোমধ্যে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে সমঝোতা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তাই ভোট গ্রহণ না করে দ্বিতীয় অধিবেশন মূলতবি করা হয়েছে। শনিবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের (আইইবি) মিলনায়তনে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন সংগঠনের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। এ সময় তিনি বলেন, ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী দুই-একদিনের মধ্যে সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করবেন।
বিকেল সাড়ে ৩টায় দ্বিতীয় অধিবেশনের শুরুতে ছাত্রলীগের সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন বলেন, কমিটির জন্য যোগ্যতার ভিত্তিতে কিছু নাম নেত্রীর (আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই মাননীয় নেত্রী নতুন নেতৃত্বের বিষয় আমাদের জানিয়ে দেবেন। এ জন্য হয়তো দু’-একদিন সময়ও লাগতে পারে কমিটির ঘোষণা আসতে।
জাকির বলেন, দেশরতœ শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তার উপর আমাদের সবার শতভাগ আস্থা বিশ্বাস রয়েছে। নতুন নেতৃত্বের নির্বাচনে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত মেনে নেবে ছাত্রলীগ। দু’-একদিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে নতুন কমিটি উপহার দেবেন। আমরা তার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। সেই সিদ্ধানন্ত আমরা আপনাদের জানিয়ে দেবো। হয়তো বা দুই একদিন দেরী হতে পারে।
বিদায়ী সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করার পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ সফলভাবে হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ মিছিল বের করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি আইইবি থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় রোববার ঢাকা মহানগরীর সকল ইউনিটে সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। আগামী সোমবার দেশের সকল সাংগঠনিক ইউনিটেও একই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানানো হয়।
শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শুরু হয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন। এতে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক। তিনি যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, দ্বিতীয় অধিবেশন আমরা সেভাবেই পরিচালনা করবো। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে আমাদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন এবং শেষ নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই আপনাদের মাঝে সবকিছু ঘোষণা করবো। সে জন্য কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। তার এই বক্তব্যের পর দুপুরের খাবার পর্যন্ত অধিবেশন মূলতবি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধনের পর রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে যান আওয়ামী লীগের নেতারা। সেখানে এবার আর সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে ভোটাভুটির মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হবে না, ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের অনুরোধে নেতা বাছাই করে দেবেন বলে জানান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগের নেতৃত্বের বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে অনূর্ধ্ব ২৯ বছর। এ সময় বৈঠকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর রাখা বক্তব্যে শীর্ষ নেতদের বয়স অনূর্ধ্ব ২৮ করার প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা বলেন, ২৮ বছর বয়সসীমার কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়তে পারে। নেতাদের অনুরোধের পর বয়স বাড়ান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, বয়স বাড়ানো যেতে পারে তবে তা হতে হবে একেবারে ২৯-এর মধ্যে। এ বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা জানান, নেত্রী বলেছেন, বয়স হবে ২৮ বছর ৩৬৪ দিন। এক দিন কম থাকতে হবে। মোটকথা ২৯ বছর ছোঁয়া যাবে না।
উল্লেখ্য, এর আগে গত তিনবার সারাদেশ থেকে আসা কাউন্সিলর ও ডেলিগেটের মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচন করা হলেও সেটা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এ কারণে এবার সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রক্রিয়া বাদ দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেতা হওয়ায় এবার তিনিই ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। এবার ছাত্রলীগের নেতৃত্ব প্রত্যাশী ৩২৩ জন নেতা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তাদের মধ্যে ১১১ জন সভাপতি ও ২১২ জন সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
#####

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *