উত্তপ্ত পার্বত্যাঞ্চল

স্টাফ রিপোর্টার।।
আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে আবারো অশান্ত হয়ে উঠেছে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা। গত পাঁচ মাসে নিহত হয়েছেন ১৭ জন। আর অপহরণের শিকার হয়েছেন অনেকে। এ অবস্থায়, একে অপরকে দুষছে আঞ্চলিক সংগঠনগুলো।

এদিকে, সংঘাতের পেছনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন পার্বত্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি। এক্ষেত্রে বিশ্লেষকরা বলছেন, পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে দ্রুত সংঘাত নিরসন জরুরি।

চলতি বছরের তেসরা জানুয়ারি, খাগড়াছড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন ইউপিডিএফ সংগঠক মিঠুন চাকমা। ১৭ই ফেব্রুয়ারি দিলীপ কুমার চাকমা ও ২১ ফেব্রুয়ারি সাইন চাকমা নিহতের ঘটনায় উত্তেজনা শুরু হয় তিন পার্বত্য জেলায়। এরপর গত এপ্রিলে, প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন আরো চারজন।

চলমান উত্তেজনার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। আর সবশেষ, শুক্রবার দুর্বৃত্তের ‘ব্রাশ ফায়ারে’ নিহত হন ‘ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক’ অংশের আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমাসহ পাঁচজন। এক্ষেত্রে দোষারোপের মধ্যেই দায় এড়াচ্ছে বিবাদমান সংগঠনগুলো।

তিন পার্বত্য জেলায় সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর দ্বন্দ্বকে। মূলত, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তির পরও পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ১৯৯৮ সালে গঠিত হয় ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা ইউপিডিএফ। ২০১৭ সালে, ইউপিডিএফ ভেঙে আত্মপ্রকাশ করে গণতান্ত্রিক অংশ। অন্যদিকে ২০০৭ সালে ‘জনসংহতি সমিতি’ ভেঙে আত্মপ্রকাশ করে, ‘জেএসএস- সংস্কারপন্থী’।

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চতুর্মুখী দ্বন্দ্বে তিন পার্বত্য জেলায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডকে অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান বলেন, ‘আঞ্চলিক দল বলেই না, এগুলোর পাশাপাশি কিছু সাম্প্রদায়িক দলও তৈরি হয়েছে। দলগুলোর মধ্যে যে আত্মঘাতী সংঘাত শুরু হয়েছে, আমরা যেটাকে ভ্রাতৃঘাতি বলি। সেটা তো আসলে খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত।’

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের (পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল) সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘ঘটনা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে, কমছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ নেয়া দরকার যাতে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয়।’

এদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী মনে করে, জাতীয় নির্বাচনের আগে, পাহাড়ে অস্থিরতা তৈরি চক্রান্তের অংশ হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘এর পেছনে জাতীয়, আন্তর্জাতিক উভয় চক্র থাকতে পারে। পাহাড়ের এই সমস্ত ঘটনার সঙ্গে আমাদের জাতীয় নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করার ঘটনা কিনা সেটাও আমাদের ভেবে দেখতে হবে।’

হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি থেমে নেই অপহরণও। গত পাঁচ মাসে অপহৃত ২০ জনের মধ্যে মুক্তিপণ ও সমঝোতায় কয়েকজন মুক্তি পেলেও খোঁজ নেই অধিকাংশের।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *