রোহিঙ্গা সঙ্কট এভাবে চলতে পারে না : নিরাপত্তা পরিষদ

স্টাফ রিপোর্টার।।
রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে একটি মানবিক সঙ্কট এবং মানবাধিকারের সঙ্কট হিসেবে বর্ণনা করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল বলেছে, সমাধান না করে এই সমস্যা এভাবে ফেলে রাখা যায় না।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখে সোমবার বাংলাদেশ ছাড়ার আগে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের পক্ষে কুয়েতের স্থায়ী প্রতিনিধি মনসুর আয়াদ আল-ওতাইবি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, “যে বার্তা আমরা মিয়ানমার, রোহিঙ্গা শরণার্থী আর পুরো বিশ্বকে দিতে চাই, তা হল এই সঙ্কটের অবসান ঘটাতে এবং সমাধানের একটি পথ খুঁজে বের করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

এই প্রতিনিধি দলের নেতা নিরাপত্তা পরিষদের চলতি মাসের সভাপতি গুস্তাবো আদোলফো মেসা কুয়াদ্রা ভেলাসকাসও ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পর্ষদ হিসেবে বিবেচিত নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ দেশের প্রতিনিধিসহ ৪০ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রোববার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন। সোমবার তারা রওনা হন মিয়ানমারের নেপিদোর উদ্দেশ্যে।

গতবছর অগাস্টে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে নতুন করে রোহিঙ্গাদের ঢল শুরু হয়ার পর এই প্রথম জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কোনো প্রতিনিধি দলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করল।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ব্যাপক হত্যা নির্যাতনের মুখে গত আট মাসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। সেনাবাহিনীর ওই অভিযানকে জাতিসংঘ বর্ণনা করে আসছে জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে।

নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখতে বাংলাদেশে এলেও এই সঙ্কটে জাতিসংঘের এই পর্ষদ কীভাবে সম্পৃক্ত হবে তা নিয়ে মিয়ানমারের দুই মিত্র দেশ রাশিয়া ও চীনের ভিন্নমত ছিল।

অন্যদিকে লাখ লাখ রোহিঙ্গার ভার বহ করে আসা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই সঙ্কটের দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদকে।

এই সঙ্কট সময়মত সামাল দেওয়া না হলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলেও সতর্ক করে আসছে বাংলাদেশ।

ফাইল ছবি ফাইল ছবি কুয়েতের প্রতিনিধি মনসুর আয়াদ আল-ওতাইবি এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের বলেন, চীন বা রাশিয়ার দিক থেকে কোনো বাধা তিনি দেখেননি।
“তারা নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য এবং তারাও আমাদের সাথে আছে। তাদের বক্তব্য গতকাল আপানারা শুনেছেন। আজ তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন এবং এই সঙ্কটের সমাধানে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।”

অবশ্য তারা যে এ সমস্যার সহজ বা তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান দেখতে পাচ্ছেন না, সে কথাও বলেন মনসুর আয়াদ আল-ওতাইবি।

তিনি বলেন, “যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যার সমাধানে সব পক্ষকেই আন্তরিক হতে হবে।”

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *