সরকারি খরচে আইনি সহায়তা পেয়েছে ২ লাখের বেশি মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার।।
জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস আজ। আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন ও বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থদেরকে সরকারি খরচে আইন সহায়তা দিতে ষষ্ঠবারের ন্যায় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত হচ্ছে দিবসটি। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে‘ উন্নয়ন আর আইনের শাসনে এগিয়ে চলছে দেশ, লিগ্যাল এইডের সুফল পাচ্ছে সারা বাংলাদেশ’

সরকারি আইনি সেবা প্রদানের বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০১৩ সাল থেকে ২৮ এপ্রিল দিনটিকে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালন করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন ও বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ ২ লাখ ১ হাজার ১২৫ জনকে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগসহ মামলা দায়েরে সহযোগীতা করেছে লিগ্যাল এইড। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার ১৫৪ জন নারী, ৯৭ হাজার ৪৪২ জন পুরুষ এবং ৫২৯ জন শিশুকে এ আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় আইনগত সহায়তার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশের ৬৪টি জেলায় জেলা ও দায়রা জজের নেতৃত্বে গঠন করা হয় জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি। এই কমিটির পাশাপাশি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এবং চৌকি আদালত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীম কোর্টে লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করা হয়।

এছাড়া দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রমিকদের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ২০১৩ সালে ঢাকার শ্রম আদালতে ও ২০১৬ সালে চট্টগ্রামস্থ শ্রম আদালতে শ্রমিক আইন সহায়তা সেল স্থাপন করা হয়েছে।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসগুলোকে এখন শুধু আইনি সহায়তা প্রদান কেন্দ্রের পাশাপাশি মামলা জট কমানোর লক্ষ্যে এ অফিসগুলোকে ‘এডিআর কর্নার’বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রীম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস চালুর পর থেকে ২০১৮ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৭শ ৭১ টি মামলা দায়ের ও পরিচালনায় সরকারি খরচে আইনি সহায়তা প্রদানসহ ৩ হাজার ১৯ জনকে আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রম আদালতে স্থাপিত দু’টি শ্রমিক আইন সহায়তা সেল থেকে ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ১০ হাজার ৪২৭ জনকে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, সরকারি আইন সহায়তা কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য সর্ব প্রথম প্রয়োজন জন সচেতনতা। সরকারি আইন সহায়তা কার্যক্রমের সাফল্য নির্ভর করছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও জনমত সৃষ্টির উপর। কেননা এখনও এদেশের জনগণের একটি অংশ দরিদ্র ও নিরক্ষর। এই দরিদ্র ও নিরক্ষর জনগণ তাদের আইনগত অধিকার সম্পর্কে ততটা সচেতন নয়। এজন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা। তাহলেই কেবল লিগ্যাল এইডের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *