৬৫ বছর পর দুই কোরিয়ার নতুন ইতিহাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯৫৩ সালের কোরিয়া যুদ্ধ বিভেদ রেখা টেনে দিয়েছিল উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে। এরইমধ্যে কেটে গেটে ৬৫ বছর। তবে ৬৫ বছর পর দুই কোরিয়া নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তা হলো দুই কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানরা নতুন সম্পর্ক সূচনা’র অংশ হিসেবে বৈঠকে বসেছেন।

রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, দুই দেশের সীমান্তবর্তী গ্রাম পানমুনজমের ওই সীমান্তে শুক্রবার ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের সঙ্গে হাসিমুখে করমর্দন করেন দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। পরে দুই নেতা বৈঠকে বসেন পানমুনজমের এক বাড়িতে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘পিস হাউস।’

এর আগে উত্তরের নেতা দুই দেশের মিলিটারি লাইনে পৌঁছালে দক্ষিণের নেতা মুন তাকে স্বাগত জানান। কিমের অভাবনীয় এক তাৎক্ষণিক আমন্ত্রণে মুনও সীমারেখা টপকে উত্তরের মাটিতে পা রাখেন। করমর্দনের পর কিমের হাত ধরে ফের তাকে সীমান্ত পার করে দক্ষিণে নিয়ে আসেন প্রেসিডেন্ট মুন। সামরিক কায়দায় গার্ড অব অনার দিয়ে অভিবাদন জানানো হয় উত্তরের নেতাকে।

১৯৫৩ সালে কোরিয়া যুদ্ধের অবসানের পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার কোনো শীর্ষ নেতার দক্ষিণে পদার্পণ।

উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকের উদ্বোধনীতে কিম বলেন, শান্তির পথে এগিয়ে যেতে এ সম্মেলনে খোলামেলা আলোচনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করছেন।

‘আমরা আজ সেই বিন্দু থেকে শুরু করলাম, যেখান থেকে শান্তি, সমৃদ্ধি আর আন্তঃকোরিয়া সম্পর্কের এক নতুন ইতিহাস লেখা হবে।’

বিবিসির খবরে বলা হয়, ঐতিহাসিক এই বৈঠকে উত্তরের পরমাণবিক কর্মসূচি, পিয়ংইয়ং ও সিউলের সম্পর্কোন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছাড়াও সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুই কোরিয়ার এই শীর্ষ সম্মেলনের আগে গত শনিবার এক ঘোষণায় কিম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্রের কাজ সাময়িক বন্ধের ঘোষণা দেন।

মুন ও কিমের এই বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শীর্ষ সম্মেলন নিয়েও আলোচনা হতে পারে। মে মাসের শেষে বা জুনের শুরুতে ওই বৈঠকে কিম ও ট্রাম্পের মুখোমুখি সাক্ষাতের সম্ভাবনা আছে।

২০১১ সালে বাবার উত্তরসূরি হিসেবে ক্ষমতায় বসেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম। তার নেতৃত্বে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যাপক বিকাশ ঘটিয়েছে।

গত বছর উত্তর কোরিয়া ষষ্ঠ পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করে। যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র আছে বলেও দাবি তাদের।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *