দলকে গিলে ফেলছেন ট্রাম্প

আমেরিকার সব প্রেসিডেন্টই (সে রিপাবলিকানই হোন বা ডেমোক্র্যাট) ক্ষমতায় থাকার সময় দলকে নিজের মতাদর্শে পরিচালনা করতে চেয়েছেন। তবে তাঁদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পই অবশ্য এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে সফল বলা চলে। একেবারে শুরুতেই, নির্বাচনী প্রচারে যেসব ভোটারকে তিনি ‘চলুন, আমেরিকাকে আবার মহান করি’ বক্তৃতাবাজি সম্মোহিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন, আজ তাঁরাই (মূলত শ্বেতাঙ্গ ও নেটিভ) রিপাবলিকান পার্টির পদধারী নেতাদের চেয়েও ট্রাম্পকে অন্ধভাবে সমর্থন করছেন। হোয়াইট হাউসের ক্ষমতায় ট্রাম্পের আরোহণের ১৫ মাস পেরিয়ে দেখা যাচ্ছে, পুরো রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণ এখন তাঁর মুঠোয়।

আমেরিকার যেকোনো নেতার জন্যই এটি অবশ্য অসাধারণ এক অর্জন। অন্তত তেমন একজনের জন্য তো অবশ্যই, যিনি এর আগে কখনোই না ছিলেন ওয়াশিংটন ডিসির বাসিন্দা, না ছিলেন সরকারি পদে, যাকে ঘিরে একাধিক নারী সংসর্গের কেচ্ছা ঘুরছে বাজারে, যাঁর সব কটি একজন মুদি দোকানিরও অজানা নয় এবং ইনিই সেই ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি এই চার বছর আগেও ডেমোক্রেটিক পার্টির তহবিলে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে নিয়মিত অনুদান দিয়েছেন। এই তিনিই আবার রিপাবলিকান পার্টির এখন সর্বেসর্বা হয়ে উঠতে চাইছেন।
ট্রাম্পের সংগঠন গোছানোর নীতি একটিই। আর তা হলো খোদ ট্রাম্পের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য। আনুগত্যের প্রশ্নে একজন প্রেসিডেন্ট আপসহীন হতেই পারেন। তবে সেই আনুগত্য তো হতে হয় রাষ্ট্রের প্রতি, সমর্থক হিসেবে দলের আদর্শের প্রতি, নয়তো সরকারের ভিশনের প্রতি। কিন্তু সব ছাপিয়ে আনুগত্যের মানে শুধুই এক ব্যক্তির মনোবাঞ্ছা বাস্তবায়ন? তা-ও আবার নিঃশর্ত? সেই ব্যক্তির একদেশদর্শী চিন্তা ও ক্রোধের প্রতি আনুগত্য? সেটি হলে গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক দলের জন্য বেশ আশঙ্কার কথাই বটে! অবশ্য ট্রাম্প তাঁর একচোখা নীতির বলেই সমমনা ভোটারদের একটি বড় অংশকে তাঁর দিকে টেনেছেন। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও ট্রাম্প তাঁর ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারেননি। আমেরিকার মতো বহুজাতি, বহু রং ও বহু মতের দেশে প্রেসিডেন্ট আবেগপ্রবণ কিশোরী হয়ে উঠছেন, চণ্ডীমূর্তিতে একে বধ করছেন, ওকে শায়েস্তা করছেন—এমনটি কখনো মার্কিন দেশে দেখা যায়নি বলেই বিশেষজ্ঞদের মত। লক্ষণীয় বিষয় হলো, ক্রমেই এটি আমেরিকার রাজনীতিতে বিপজ্জনক প্রবণতা হয়ে উঠছে।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়েও ট্রাম্প তাঁর সদা মেজাজি চরিত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন ও আবেগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে সরকার পরিচালনা করছেন। তাঁর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য প্রত্যাশা ও হুটহাট রেগে যাওয়া, সেই রাগের কোপানলে অন্যকে ঝলসে ফেলার যে ক্রমবর্ধমান প্রবণতা, সেটি গণতন্ত্রের পথকে ক্রমে অমসৃণ করে তুলছে। ফলে যে গণতন্ত্র পৃথিবীর মানুষের আকাঙ্ক্ষিত রূপকল্প, তার মূলাধারে কুঠারাঘাত পড়ছে।
ট্রাম্পের একমেবাদ্বিতীয়ম হয়ে ওঠার নমুনা
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের স্বেচ্ছাচারী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথে অন্যের মত না শোনার মনোভাব আমেরিকার রাজনীতিতে অবশ্য নতুন নয়। ওভাল অফিসের অতীত ঘাঁটলে দেখা যায়, দু-একজন আত্মম্ভরি প্রেসিডেন্ট যে ওভাল অফিসে বসেননি, তা নয়। তাঁদের মধ্যেও কেউ কেউ প্রতিপক্ষকে দোষারোপের দোষে দুষ্ট ছিলেন, নারী সংসর্গে ওস্তাদ ছিলেন, একচ্ছত্র ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়েছেন কিংবা প্রেসিডেন্ট হিসেবে সব ঔচিত্যের শ্রাদ্ধ করে ছেড়েছেন। কিন্তু এ কথা সত্য, তাঁদের কেউই ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো সব সদাচার লাটে তুলে দিয়ে এমন ঔদ্ধত্য দেখাননি।
সত্যকে বুড়ো আঙুল দেখানোই হলো ট্রাম্পীয় ক্ষমতার চরিত্র। এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে জেমস কোমির যে রাজনৈতিক স্মৃতিকথা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে কোমি বর্তমান মার্কিন প্রশাসন নিয়ে রীতিমতো হতাশা প্রকাশ করেছেন। অথচ জেমস কোমি ট্রাম্পের সঙ্গে কাজও করেছেন। কোমি এফবিআইর পরিচালক ছিলেন, যাকে ট্রাম্প এক বছর আগে বরখাস্ত করেন। কোমি লিখেছেন, আনুগত্যের নামে বড়-ছোট সব বিষয় নিয়েই মিথ্যার মহোৎসব প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এ রকম নীতি যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে নৈতিকতা বিবর্জিত করে তোলে। ট্রাম্প সত্য ও মিথ্যার মধ্যে কিছুমাত্র পার্থক্য করেন না এবং সম্ভবত রাষ্ট্র চালাতে এই পার্থক্য করতে হয়—এই বিদ্যা কখনো শেখেননি। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি জীবনভর, এমনকি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার থেকেও শিক্ষা নিয়েছেন—সত্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েও সফল হওয়া যায়। ট্রাম্প দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সত্য যদি প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতাবলে তিনি তা উতরে যেতে পারবেন।
যখন ক্ষমতাই সত্যের ওপর ছড়ি ঘোরায়, সমালোচনার অনুবাদ হয়ে যায় ‘বিশ্বাসঘাতকতা’। গঠনমূলক সমালোচকেরা নিঃশর্ত আনুগত্য দেখাতে পারেন না। তাঁরা নিরপেক্ষতার নামে অন্ধ প্যাঁচাও হতে পারেন না। কারণ সত্য তো নিরপেক্ষ নয়। সত্যের দল আছে। আর সেটি সত্যের পক্ষেই কথা বলায়। দার্শনিক হানা অ্যারেন্ট ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকের রাজনীতির উদাহরণ টেনে দেখিয়েছেন, সত্যই সাধারণ মানুষের সমর্থনের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ফলে সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার যখন সাক্ষ্য দেন, নির্বাচনী প্রচারে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছে—ডোনাল্ড ট্রাম্প তৎক্ষণাৎ তাঁকে শত্রু হিসেবে সাব্যস্ত করেন। এর কিছুদিন পরেই ট্রাম্পের কোপানলে পড়ে বেচারা উপদেষ্টাকে চাকরিই খোয়াতে হয়।
লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী ইকোনমিস্ট বলছে, ট্রাম্পের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের এই সংস্কৃতি ও এই আদর্শের ভিত্তি সরকারকে তিন পথে ক্ষতিসাধন করছে।
প্রথমত, রাষ্ট্রের নীতি প্রণয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পূর্বের সরকারগুলোর গৃহীত অনেক কাজে ছেদ পড়ছে। সত্য, প্রমাণ, বিতর্ক কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে সরকার আবেগ, বিরাগ, ক্রোধ, সম্প্রদায়গত পক্ষপাত, ব্যবসায়িক স্বার্থের বশবর্তী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। ট্রাম্প অবশ্য তাঁর প্রথম বছরে কিছু অর্জনের দাবিও করেছেন। সেগুলো হচ্ছে নাগরিকদের করের বোঝা কমানো, ব্যবসা-বাণিজ্যে সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমানো ও বিচার বিভাগে রক্ষণশীল বিচারপতিদের নিয়োগ সম্পন্ন করা। কিন্তু ট্রাম্প তাঁর অধিকাংশ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আসলে কী চান, সেটি পরিষ্কার থাকেনি। ফলে বিনা কারণেই আমেরিকা বিশৃঙ্খল হয়ে উঠছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ট্রাম্প ট্রান্স-প্যাসিফিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথমে বিরোধী ছিলেন, পরে এর সমর্থক হলেন, পরবর্তী সময়ে আবারও এর বিরোধিতায় জড়ালেন। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবি উঠলে সমাধান হিসেবে শিক্ষকদের সশস্ত্র হওয়ার ব্যবস্থাপত্র দিলেন।
দ্বিতীয়ত, প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের সামনে সংবিধান সীমাবদ্ধ হবে, মার্কিন সংবিধানের এই প্রথা ট্রাম্পের একচেটিয়া স্বার্থপরতার বলি হতে চলেছে। ট্রাম্প যেসব ধারাবাহিকতা লঙ্ঘন করেছেন, ডেভিড ফ্রাম তার একটি তালিকা তৈরি করেছেন। ফ্রাম একসময় জর্জ ডব্লিউ বুশের ভাষণ লেখক হিসেবে কাজ করেছেন। জেরাল্ড ফোর্ডের সময় থেকে চলে আসা প্রথা ভেঙে নিজের করের কাগজ প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ট্রাম্প। রিচার্ড নিক্সনের সময় থেকে চালু স্বার্থের দ্বন্দ্বে প্রেসিডেন্ট জড়াবেন না—সেই প্রথাও উপেক্ষা করেছেন তিনি। লিন্ডন জনসনের সময়ে চালু প্রথা মুনাফাভিত্তিক ব্যবসার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট জড়িত থাকবেন না, সেটিও ভেঙেছেন। জন এফ কেনেডির সময়ে চালু প্রথা, প্রেসিডেন্ট তাঁর নিকটাত্মীয়কে প্রশাসনের উচ্চ পদে নিয়োগ দেবেন না; বলা বাহুল্য সেটি তো ভেঙেছেনই। ইউলেসিস এস গ্রান্টের সময় থেকে চালু প্রথা ভেঙে প্রেসিডেন্ট হয়েও পৃষ্ঠপোষক হওয়ার বিনিময়ে সম্পদ অর্জন করেছেন ট্রাম্প।
তৃতীয়ত, ট্রাম্প তাঁর প্রতিপক্ষ ছাড়াও নিজ দলেরই লোকদের গায়ে বন্ধু-শত্রুর লেবেল সেঁটে দিচ্ছেন। নিজ দলে ট্রাম্পের বিরোধিতা করলেই কাউকে অসৎ, কাউকে দুষ্ট লোক আবার কাউকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দিচ্ছেন। ট্রাম্প ও তাঁর শিবির রিপাবলিকানদের দুই ভাগে ভাগ করে এগোচ্ছেন। যাঁরা ট্রাম্পকে সমর্থন করেন, তাঁরা ভালোর দলে; আর যাঁরা তা করেন না, তাঁরা খারাপ লোকের দলে—এই হলো সোজা কথায় ট্রাম্পের দর্শন। ট্রাম্পের এই দর্শনের কারণেই রেকর্ডসংখ্যক (৪০ জন) রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য আগামী নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার মধ্যে হাউস স্পিকার পল রায়ানের মতো নেতা রয়েছেন। যেসব গণমাধ্যম তাঁর প্রশংসা করে, তাদের ইতিবাচক গণমাধ্যম আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। আর যাঁরা তাঁর কাজের সমালোচনা করেন, তাঁদের আখ্যা দিয়েছেন ‘জনগণের চিহ্নিত শত্রু’। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সংযোগের মাধ্যমে ট্রাম্প রাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন, এ নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নেতৃত্বে ছিলেন রবার্ট ম্যুলার। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ট্রাম্প ম্যুলার কিংবা ম্যুলারের ঊর্ধ্বতনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন তির্যক মন্তব্য ছুড়ে দিয়েছেন। এই যদি হয় বাস্তবতা, তাহলে প্রেসিডেন্ট রাজার মতোই কোনো ব্যক্তি বিবেচিত হতে চাইছেন, যাকে আইনের ঊর্ধ্বে রেখে কথা বলতে হবে, নইলে সেটি দেশদ্রোহিতার অপরাধে চিহ্নিত হবে।
ট্রাম্পের নিজস্ব দর্শন যে জনগণ মেনে নেবে কি না, তার প্রমাণ হবে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে। তেমনটি যে ঘটবে না, সেই বাজি লাগার মানুষও কম। কিন্তু ট্রাম্প ও তাঁর শিবিরের এখনো গণমাধ্যমে কথাবার্তা শুনে নরম না হওয়ারই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে জনমত জরিপগুলো ধারণা দিচ্ছে, ট্রাম্পের সমর্থকেরা অন্তত কোমির কথায় নয়, ট্রাম্পের কথাতেই আস্থা রাখছেন। তাঁরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বিরোধীদের সমালোচনাতেই প্রমাণ হয় ট্রাম্প ভালো কিছু করছেন।

সময় এখন পুনর্মূল্যায়নের
কিন্তু দেশকে সঠিক পথে নেতৃত্ব দিতে রিপাবলিকানদেরও ঘাড়ে দায়িত্ব বর্তায়। অন্তত যাঁরা বুঝছেন, আমেরিকার নেতা হিসেবে ট্রাম্প যোগ্য ব্যক্তি নন। বিশ্বের জন্য তো ননই। এই পক্ষটির শ্যাম রাখি না কুল রাখি দশা। ট্রাম্প শিবির ছাড়া এঁরা নির্বাচনী বৈতরণি আপাতত পার হতে পারবেন না, তা নিশ্চিতভাবে বুঝে গেছেন। আবার ট্রাম্পকে চাপ দিতে গিয়ে যে কিছু বলবেন, সেখানেও ‘বিশ্বাসঘাতকের মেডেল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাম্পের’ ভূত দেখছেন তাঁরা। ফলে নিজ দলে সমালোচনার রাস্তা ট্রাম্প ইট-সুরকি দিয়ে বন্ধ করে ফেলছেন, সেটি এক রকম নিশ্চিতই।
সংকটে থাকা রিপাবলিকানদের এ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে হবে। দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক হতে হবে। তাদের এটি অন্তত মনে রাখা উচিত, নির্বাচনে নেটিভদের সুবিধা করে দিতেই আমেরিকার জাতিগত বিভাজন বাড়ানো হচ্ছে। অথচ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য শুধু এক জাতি বা এক সম্প্রদায়ের সুবিধা করে দেওয়া নয়। সবাইকে নিয়ে আগানো গেলে সেটাই আমেরিকার গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হবে। দেশের স্বার্থে ম্যুলারের তদন্তের প্রতিবেদন যাতে নষ্ট করা না হয়, তার সুরক্ষায় কংগ্রেসে একটি বিল উত্থাপন করতে হবে। প্রেসিডেন্টের প্রতি আনুগত্যের মানেই যদি হয়, সব ধরনের আইনের ঊর্ধ্বে তাঁর উঠে যাওয়া, তাহলে সেটি দেশের জন্য বিপজ্জনকই হবে। আর কে জানে, ট্রাম্প সেই বিপজ্জনক খেলাতে মাততে যাচ্ছেন না? সংবিধানে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানানো সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য জর্জ মেসন ১৭৮৭ সালেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন, ‘সেই ব্যক্তিকে কি বিচারের ঊর্ধ্বে রাখা যায়, যিনি নিজেই সবচেয়ে বড় অবিচারের ক্রীড়নক হয়ে উঠতে পারেন?’

—বিপ্লব কুমার রায়

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *