খিলগাঁওয়ে দেয়াল ভেঙ্গে চার কারখানার মালামাল লুট

স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর খিলগাঁওয়ে রাতের অন্ধকারে দু’টি দেশীয় ব্রান্ডের পোশাক তৈরির ছোট কারখানা ও দু’টি কম্পিউটার যন্ত্রাংশের গোডাউনে ‘লুটের’ ঘটনা ঘটেছে। কারখানা ভেঙ্গে লুটতরাজ করে সব নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানের মালিকরা অভিযোগ করেছেন। তবে পুলিশ লুটের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে গতকাল শুক্রবার ভোর ৫টা পর্যন্ত খিলগাঁওয়ের বাগানবাড়ি এলাকার পাঁচটি বাড়িতে একযোগে ভাংচুর চালানো হয়। হ্যামার দিয়ে ইটের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সব নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা।
জানা যায়, খিলগাঁও বাগানবাড়ির ওই পাঁচটি টিনসেড বাড়িতে টিএনএস ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, এসএম এন্টারপ্রাইজ, টার্বোটেক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টার্বোটেক সার্ভিস লিমিডেট নামে চারটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
টিএনএস ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, আমি কম্পিউটার যন্ত্রাংশের ব্যবসা করি। এখানে আমার দশ লাখ টাকার বেশি মালামাল ছিল। গোডাউন ভেঙে সব নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাতে যখন ভাংচুর চালানো হচ্ছিল, তখন এলাকার টহল পুলিশের সহায়তা চেয়েছিল আমাদের টার্বোটেক সার্ভিস প্রতিষ্ঠানটির মালিক সোহেল রানা। তখন টহল পুলিশ তাকে বলেছে, তাদের কিছু করার নেই, থানায় যোগাযোগ করুন।’
পোশাক কারখানার মালিক সোহেল রানা বলেন, রাত পৌনে ২ টার দিকে কারাখানায় থাকা শ্রমিকরা আমাকে ফোন দেয়। আমি সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির মালিককে ফোন দেই। বাড়ির মালিক আমাকে বললেন, তিনি ঢাকার বাইরে আছেন, এসে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমি ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে সহযোগিতা চাই। এরপর পরিচিত একজন পুলিশকেও ফোন দেই। তিনি ঢাকার বাইরে। কারও কাছ থেকে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা না পেয়ে নিজেই দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে বাসা থেকে রওয়ানা হই। দক্ষিণ রামপুরা হয়ে যখন কারখানার দিকে যাচ্ছি, তখন একটা পিকআপ ভ্যানে পুলিশ বসা দেখলাম। তারা ঘুমাচ্ছে। তাদের বললাম সব। তারা বলল, গাড়ির গায়ে লেখা নম্বরে ফোন দেন, থানায় জানাতে হবে। থানা থেকে বললে আমরা যাবো। এরপর আমি তাদের সঙ্গে আর কথা না বলে কারখানার দিকে রওনা দিলে তারা আমাকে ডাক দিলো, আবার পেছনে গেলাম, তখন বলল, চলেন। এরপর কারখানার কাছাকাছি এসে তারা থেমে গেল, পথে কার সঙ্গে যেন দেখলাম কথা বলল। তারা আর সামনে আসছে না। এরপর আমি কারখানার দিকে এগুতে থাকি। এমন সময় এক মধ্যবয়স্ক লোক আমাকে আটকিয়ে পরিচয় জানতে চাইলো। আমি বললাম, কারখানার মালিক, সে বলল বাড়ির ভেতরে যাও। আমি ভয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে দেখি, বাড়িটির দেয়াল ভেঙ্গে সব নিয়ে যাচ্ছে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে তারা আমার কারখানা থেকে পাঞ্জাবি, শার্ট সব নিয়ে গেছে। ড্রয়ার ভেঙ্গে নগদ টাকাও নিছে। এছাড়া কারখানার কাগজপত্রও পাচ্ছি না। আমার শ্রমিকদের মোবাইল ফোন, আমার অফিসের কম্পিউটার ল্যাপটপ সব নিয়ে গেছে। বাড়ির মালিক শওকত হোসেন পুলিশের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করেন। অবশ্য ঘটনার পর ভোরে দুই জন কনস্টেবল এসেছিল বলে জানান রেজাউল করিম। তারা বাড়ির মালিককে থানায় যেতে বলছেন।
বাড়ির মালিক শওকত হোসেন বলেন, আমি ঘটনার সময় গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে ছিলাম। আমাকে ভাড়াটিয়ারা ফোন করে জানালো সব ভেঙ্গে ফেলছে। আমি এখন যাচ্ছি সেখানে।
এদিকে লুটের ঘটনা অস্বীকার করেছেন খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান। তিনি বলেন, লুটের কোনো ঘটনা না। ওই বাড়ির মালিক রাস্তার জমি ছাড়েনি বলে ভাংচুর হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
ওি
সর এই কথার জবাবে কারখানার মালিক রেজাউল করিম বলেন, বাড়ির মালিক কি করেছেন তা সে বলতে পারবেন, কিন্তু ভাংচুর করে আমাদের কারখানার মালামাল ভ্যানে করে কেন নিয়ে যাওয়া হলো?

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *