সীমান্তে উত্তরের কিমকে স্বাগত জানাবেন দক্ষিণের মুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে শীর্ষ বৈঠকের আগে সিউলের সিটি হলের বাইরে বিশাল ব্যানার লাগানো হয়েছে; ২৫ এপ্রিল, ২০১৮। রয়টার্স
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে শীর্ষ বৈঠকের আগে সিউলের সিটি হলের বাইরে বিশাল ব্যানার লাগানো হয়েছে; ২৫ এপ্রিল, ২০১৮। রয়টার্স

দশককালেরও বেশি সময় পর দুই কোরিয়ার প্রথম শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিতে আসা উত্তরের নেতা কিম জং উনকে সীমান্তের সামরিক সীমারেখায় স্বাগত জানাবেন দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন।

এরপর অনার গার্ডের সদস্যরা দুই নেতাকে নিয়ে যাবেন সীমান্ত গ্রাম পানমুনজমে, সেখানেই শুক্রবার দুই কোরিয়ার শীর্ষ দুই নেতা বৈঠকে মিলিত হবেন।

পানমুনজমের পিস হাউজে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে দশটায় কিম-মুনের আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হবে। এর ঘণ্টাখানেক আগে সাড়ে নয়টার দিকে কিম উত্তরের সীমারেখা পার হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল চিফ অব স্টাফ ইম জং সিউক এসব তথ্য জানান বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

“এই সম্মেলনে অন্য কিছুর চেয়েও অ-পারমাণবিকীকরণ ও স্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা নিয়ে বেশি আলোচনা হবে। অ-পারমাণবিকীকরণ ও শান্তির গুরুত্ব বুঝতে পেরে উত্তর কোরিয়া তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তাদেরই পাঠাবে বলে ধারণা করছি আমরা,” সংবাদ সম্মেলনে বলেন ইম।

কিমের সঙ্গে এ সফরে তার বোন কিম ইয়ো জং ও উত্তর কোরিয়ার আলঙ্কারিক রাষ্ট্রপ্রধান কিম ইয়ং ন্যামসহ নয় শীর্ষ কর্মকর্তা থাকবেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিকে কিমের বোন জং-ই উত্তরের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

উত্তরের এবারের দলে আরও থাকবেন সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান কিম ইয়ং চোল এবং দেশটির স্পোর্টস প্যানেলের চেয়ারম্যান চোয়ে এইচউই।

চোল যে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ছিলেন, সেই রিকোনায়সেন্স জেনারেল ব্যুরোই ২০১০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীর জাহাজ চিওনানকে ডুবিয়ে দিয়েছিল বলে সিউলের অভিযোগ।

শীর্ষ সম্মেলনে উত্তরের প্রতিনিধি দলে উত্তরের ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য রি সু ইয়ং, (উত্তর) কোরিয়ান পিপলস আর্মির চিফ অব জেনারেল স্টাফ রি মিয়ং সুও থাকছেন।

মন্ত্রীদের মধ্যে থাকবেন উত্তরের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাক ইয়ং সিক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং হো এবং দুই কোরিয়ার শান্তিপূর্ণ পুনরেকত্রীকরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রি সন গিয়ন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলে থাকবেন দেশটির প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও পুনরেকত্রীকরণ মন্ত্রীগণ।

প্রথম দফা আলোচনার পর কিম জং উন ও মুন জায়ে ইন আলাদাভাবে দুপুরের খাবার খাবেন। বিকালে তারা বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলেও ইম জানিয়েছেন।

“শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে সীমারেখায় একটি পাইন গাছের চারা রোপণ করা হবে,” বলেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল চিফ অব স্টাফ।

বৃক্ষরোপণে যে মাটি ব্যবহৃত হবে তা আনা হয়েছে উত্তর কোরিয়ার পায়েকতু এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হাল্লা পাহাড় থেকে; চারাগাছে ছিটানো হবে উত্তরের তায়েডং ও দক্ষিণের হান নদী থেকে আনা পানি।

এরপর মুন ও কিম ফের পানমুনজনে গিয়ে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু করবেন, জানান ইম।

আলোচনার পর দুই নেতা একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন এবং চুক্তির বিষয়ে ঘোষণা দিবেন।

সবশেষে কিম ও মুন দক্ষিণের অংশে গিয়ে রাতের খাবার খাবেন এবং ‘স্প্রিং অব ওয়ান’ নামে একটি ভিডিও ক্লিপ উপভোগ করবেন বলে ইম জানিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *