মিরপুরে আগুনে মা-ছেলের মৃত্যু : দগ্ধ বাবার অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন

স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর মিরপুরে একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অগ্নিকা-ে মা-ছেরে মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- মা মিনা বেগম (২৮) ও ছেলে তামিম (৭ মাস)। এ ঘটনায় দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তামিমের বাবা মানিক মিয়া। দগ্ধ মানিক ওই বাড়ির কেয়ারটেকার ছিলেন।
মিরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুল্লাহ আরেফিন জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের ৪ নম্বর সড়কের ৪ নম্বর বাসার নিচ তলায় অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে পাঠায়।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকতা আবদুল্লাহ আরেফিন আরো জানান, গ্যাস লাইনে ত্রুটির কারণে ওই বাসায় গ্যাস জমে গিয়েছিল এবং ওই অবস্থার মধ্যে সিগারেট ধরাতে গেলে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করছেন তারা।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দগ্ধ মানিক জানান, বাসার ভেতরেই পানির মোটর ও রিজার্ভ ট্যাংকি। রাতে মোটরের সুইচ অন করার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ হয়ে বাসার ভেতর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে তিনজন দগ্ধ হন।
ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শঙ্কর পাল জানান, মিনার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তার স্বামী মানিক মিয়ার শরীরের ৯৬ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থাও খুবই সঙ্কটাপন্ন। শিশু তামিমকে হাসপাতালের আনার পরই চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, দগ্ধ অবস্থায় ৩ জনকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে রাত দেড়টার দিকে ৭ মাস বয়সী শিশু তামিম মারা যায়। গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে মারা যান তামিমের মা মিনা বেগম। নিহত তামিমের বাবা মানিক মিয়া ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার অবস্থাও গুরুতর। দগ্ধ মানিকের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চ-ীপাশা গ্রামে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ওই বাসার নিচতলার ওই ঘরেই থাকতেন তিনি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *