রাজধানীতে তুরাগ বাসে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি : ৩ জন রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীতে তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে যৌন হয়রানির চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার তিনজনের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার গুলশান থানা পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম গোলাম নবী এ আদেশ দেন। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া তিনজন হলেন- ওই বাসের চালক রোমান, বাসের সুপারভাইজার মনির ও চালকের সহকারী নয়ন।
গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাপস কুমার ওঝা তাদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, বাসের হেলপার নয়ন ও চালক রোমান ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর সঙ্গে অশ্লীল কথা বলার পাশাপাশি যৌন হয়রানি করে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। তবে রোমান ও নয়ন বলেছে, তারা এমন ঘটনায় জড়িত নয়।
আসামির আইনজীবী ইকবাল হোসেন ও হাতেম আলী এই মামলাকে মিথ্যা মামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে রোমান, মনির ও নয়নকে গ্রেফতার করা হয়।
উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, তুরাগ পরিবহনের গাড়িচালক ও তার সহকারী তাকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করলে কৌশলে তিনি তাদের খপ্পর থেকে বেরিয়ে আসেন। ওই ঘটনায় ওই ছাত্রীর স্বামী রোববার বিকেলে বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলাও করেন। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জানানোর পরই শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামেন। তারা রোববার যাত্রাবাড়ী থেকে আবদুল্লাহপুরগামী তুরাগ পরিবহনের বাসগুলো উত্তরায় পৌঁছালেই সেগুলো থামিয়ে দেন। বাসের যাত্রীদের অন্য বাসে তুলে দিয়ে চালককে তাদের ক্যাম্পাসের কাছে বাস চালিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য করেন এবং বাসের চাবি কেড়ে নেন। সোমবার বিকেলের দিকে উত্তরার কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের সামনে সারি বেঁধে তুরাগ পরিবহনের বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। চলন্ত বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে তুরাগ পরিবহনের ৩৫টি বাস আটকে রেখে প্রতিবাদ করেন উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত বাস চালক ও তার সহকারীকে গ্রেফতারে তারা গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। ব্যর্থ হলে আটকে রাখা বাসের কোনো ক্ষতির দায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা নেবে না বলে ঘোষণাও দেন তারা। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গ্রেফতার হওয়ার পরই সোমবার রাতে বাসগুলো পুলিশকে বুঝিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী গত শনিবার দুপুরে উত্তরা ৬ নং সেক্টরে উত্তরা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে আসার জন্য উত্তর বাড্ডা এলাকা থেকে তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। বাসে যাত্রী ছিল মাত্র ৭-৮ জন। এ সময় নাটকীয়ভাবে পরবর্তী স্টপেজগুলোতে বাস সামনে যাবে না বলে যাত্রীদেরকে নামাতে থাকে এবং নতুন কোনো যাত্রী ওঠানো বন্ধ রাখে। ওই ছাত্রী আশঙ্কা ও সন্দেহবশত বাস থেকে নামার চেষ্টা করলে বাসের হেলপার দরজা বন্ধ করে দেয়। সুপারভাইজার তার হাত ধরে টানাটানি শুরু করে। বাসের সুপারভাইজার ও হেলপারের সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফিয়ে বেরিয়ে আসেন। এরপর অন্য বাসে চড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরে কর্তৃপক্ষ ও সহপাঠীদের বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে সহপাঠীরা ওই বাসটি আটক ও হেলপার-সুপারভাইজারকে আটকের দাবিতে রাস্তায় মানববন্ধন করে। বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা তুরাগ পরিবহনের অর্ধশত বাস আটকে চাবি নিয়ে নেয়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *