বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন তারেককে দেশে ফেরাতে বাধা হবে না : শফিক আহমেদ

স্টাফ রিপোর্টার
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জনও করে থাকেন, তবুও তাকে দেশে ফেরাতে ‘নাগরিকত্ব বর্জন’ কোনও বাধা হবে না বলে জানিয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশ নাগরিক হলেও বাংলাদেশি নাগরিক থাকা অবস্থাতেই তিনি অপরাধ করেছেন এবং সেই অপরাধের বিচার শেষে রায় হয়েছে।’
মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে নিজের চেম্বারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পাসপোর্ট জমা দিলেই নাগরিকত্ব চলে যায় কিনা, প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘উনি (তারেক রহমান) ভিসা নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই ভিসার একটি মেয়াদ আছে। ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে, তিনি সেখানে কীভাবে থাকছেন, তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন এসে যায়। সেজন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী একথা বলেছেন যে, উনি পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। এখন বলা যেতে পারে, এর উদ্দেশ্য কী? হতে পারে, তিনি মেয়াদ বাড়ানোর জন্য পাঠিয়েছেন, অথবা পাসপোর্ট সারেন্ডার (ত্যাগ) করেছেন। এ সম্পর্কে আমার মনে হয়— আরও কিছু তথ্য দরকার। সত্যতা যাচাই করা দরকার, উনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেয়েছে কিনা এবং সেই প্রেক্ষিতেই বাংলোদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন কিনা, সেটা এখন জানার বিষয়।’
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা জানতে চাইলে সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পাসপোর্টে একটি মেয়াদ থাকে। মেয়াদ শেষ হলে পাসপোর্ট ইস্যু করবে কে? বাংলাদেশের সরকারের কাছ থেকেই তো পাসপোর্ট নিয়েছে। ব্রিটিশ সরকার তো পাসপোর্ট ইস্যু করবে না। সেক্ষেত্রে উনি (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী) হয়তো প্রিজাম্পশন (ধারণা) করেছেন। এটাতো ধারণা হয় যে, বাংলাদেশে উনার (তারেক রহমান) নাগরিত্ব নেই। সেটা দেখাতেই ব্রিটিশ সরকারকে পাসপোর্ট দিয়েছেন। সুতরাং সেই পাসপোর্ট তিনি কেন দিলেন, সেটি কিন্তু প্রশ্নের বিষয়।’
তিনি আরও বলেন,‘পাসপোর্ট জমার মাধ্যমে এখন তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন এবং ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন কিনা, তা দেখার বিষয়। এটি না জেনে আমাদের মনে হয় কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’
তিনি (তারেক রহমান) যদি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে তার স্ট্যাটাস কী হবে, জানতে চাইলে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘যদি বাংলাদেশের পাসপোর্ট জমা দিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে তিনি আর এ দেশের নাগরিক থাকবেন না। তবে নাগরিকত্ব বর্জনের বিষয়টি এখনও জানার বিষয়। এটি একটি আলোচনার বিষয়। এবিষয়ে পরিষ্কার ধারণা আসবে যদি ব্রিটিশ সরকার থেকে বিবৃতি দেয়। আর বাংলাদেশ সরকার যদি তদন্ত করে বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার একটি ধারণা দেয় তবে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।’

তাহলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ধারণার ওপর নির্ভর করে কথা বলছেন কিনা, জানতে চাইলে শফিক আহমেদ বলেন, ‘উনি (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী) শুধু বলেছেন পাসপোর্ট জমা হয়েছে। কিন্তু সিকোয়েন্স (পরিণাম) কী হয়েছে, তা কিন্তু বলেননি।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ তিনজনকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশটির গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিন্তু তথ্যভিত্তিক বক্তব্য দিয়েছেন। এখন তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা যদি তথ্যভিত্তিক না হতো, তাহলে কিন্তু লিগ্যাল নোটিশের গ্রহণযোগ্যতা থাকতো। নোটিশের জবাব না পেলে দেওয়ানি বা ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সে বিষয়ে ব্যারিস্টার শফিক আহমদ বলেন,‘এখানে দেওয়ানির কী আছে? এখানেতো কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ফৌজদারির কী আছে? একটা স্টেটম্যান অব ফ্যাক্ট তিনি (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী) দিয়েছেন যে, পাসপোর্টটি কোথায় জমা দিয়েছেন, এটা বলেছেন। এখন জমা না দিলে তারা বলুক, আমরা এখানে না ওখানে জমা দিয়েছি।’

এখন তারেক রহমান যদি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, সেক্ষেত্রে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পদ্ধতির বিষয়ে শফিক আহমেদ বলেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) কিন্তু এখনও বলেননি যে, তিনি এদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন। তবে তিনি ব্রিটিশ নাগরিক হলেও বাংলাদেশি নাগরিক থাকা অবস্থাতেই অপরাধ করেছেন এবং সে অপরাধে বিচার হয়ে রায় হয়েছে। এখন বাংলাদেশ সরকার চাইতে পারে— বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকলেও সরকারের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারে।’ কেন তাকে (তারেক রহমান) দেশে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন, আর তারা (ব্রিটিশ সরকার) কেন তাকে (তারেক রহমান) ফিরিয়ে দিতে চান না, সে বিষয়েও এখন আলোচনা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *