বাঁচানো গেলো না দাফনের আগে জেগে উঠা শিশুটিকে

স্টাফ রিপোর্টার
সবার মনে আশার আলো ফুটিয়েও অবশেষে সবাইকে নিরাশার অন্ধকারে ডুবিয়ে চলে গেল আজিমপুরে কবর দেয়ার সময় জেগে ওঠা সেই শিশুটি। মঙ্গলবার ভোররাতে রাজধানীর শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে শিশুটি। মৃত ঘোষণার পর সোমবার কবর দেয়ার আগে নড়েচড়ে ওঠে নবজাতক। এমন নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে। এদিকে, মৃত্যু সনদ দেয়ার পরও ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনাটি তাদের হাসপাতালের নয়।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মো. আবদুল আজিজ বলেন, এই নবজাতককে বাঁচানো যায়নি। সোমবার দিবাগত রাতে সে মারা গেছে। তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ বলেন, শিশু হাসপাতালে ভর্তির পর আমরা খুব সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় মীমকে পাই। তার শ্বাস-প্রশ্বাস খুবই কম ছিল, মিনিটে মাত্র তিন চার বার শ্বাস নিচ্ছিল। আমাদের এখানে ভর্তির পর আমরা আর্টিফিশিয়াল ভেন্টিলেশনের মধ্যে মীমকে রাখি। সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মীমের অবস্থা খানিকটা উন্নত হয়। তবে একটু পর থেকেই অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে। রাত একটার দিকে তার অবস্থা খুবই খারাপ পর্যায়ে চলে যায়। পরে রাত ১টা ৩৩ মিনিটে মীম মারা যায়।
আব্দুল আজিজ বলেন, মীমকে বাঁচাতে আমাদের ডাক্তাররা প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেও বাচ্চাটির ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছেন। আমরা চেয়েছিলাম মীমকে সুস্থ করে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেবো। কিন্তু হিউম্যান রিলেটেড সকল প্রক্রিয়া আমরা গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু সবকিছু সব সময় আমাদের হাতে থাকে না।
শিশুটির মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে ডা. আজিজ বলেন, ডাক্তারদের মধ্যে পূর্ব ধারণা ছিল মায়ের পেটেই বাচ্চাটি মারা গেছে, মায়ের পেটেও বাচ্চাটি নড়াচড়া করেনি, আজিমপুরে গোসলের সময় নড়ে ওঠলে তাকে মাতৃসদনে ইনকিউবিটরে রাখার পর আমাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাফিলতি, ভুল এবং ধারণা বিষয়গুলো ভিন্ন। শিশুটির মা গত ১৯ তারিখ ধামরাইয়ের একটি ক্লিনিকে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। তারপর গত ২১ তারিখ রাতে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হন। শিশুটির মা ধারণা করছিলেন, তার বাচ্চা পেটে মারা গেছে। শিশুটি অপরিপক্ক হওয়ায় পেটের ভেতরে তার শ্বাস-প্রশ্বাসও ধরা পড়ছিল না।
ডা. আজিজ বলেন, ২৩ তারিখ সকালে ডেলিভারি হওয়ার পর শিশুটির ওজন এবং হার্টবিট এত কম ছিল, যা বুঝতে কষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক। পরে গোরস্থানে গোসলের সময় পানি পেয়ে শিশুটি নড়ে ওঠে। ওখানকার ডাক্তারদের যেহেতু শিশুটি জীবিত বলে ধারণা হয়নি, তাই পরবর্তী চিন্তাও হয়নি। দুর্ভাগ্যবশত একটা গ্যাপ হয়ে গেছে। পূর্ব ধারণা ঠিক হলে ডেলিভারিটা ওয়েল ওরগানাইজড হতো। জন্মের পর শিশুটির যে অবস্থা ছিল, তাতে ফলাফল হয়তো ভালো হতো না।
তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঢাকা মেডিকেল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তারা যদি আমাদের কাছে তথ্য চায়, আমরা যে কোন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করব।
গত সোমবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শারমিন আক্তার (২৪) নামে এক নারী একটি মেয়ে শিশু প্রসব করেন। জন্মের পরই নবজাতকটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আজিমপুর কবরস্থানে দাফনের জন্য গোসল করানোর সময় নবজাতকটি হঠাৎ নড়ে ওঠে। দুপুরের দিকে নবজাতকটিকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রাখা হয়। শিশুটির নাম রাখা হয় মীম।
শিশু হাসপাতালের সিসিইউর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন তখন জানিয়েছিলেন, নবজাতকটির অবস্থা খুব খারাপ। তার হৃদযন্ত্র সচল আছে। অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে তাকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, নবজাতকটির ওজন ছিল মাত্র ৯০০ গ্রাম। সম্ভবত সাত মাসে তার জন্ম হয়েছিল। অস্ত্রোপচার ছাড়াই তার জন্ম হয়। নবজাতকের মা শারমিন আক্তার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নবজাতকটির বাবা মিনহাজ উদ্দিন। তিনি একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। স্ত্রীসহ তিনি ধামরাইতে থাকেন।
####

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *