অপরাধে না জড়ালে আমিরাতের শ্রমবাজার আরো খুলবে : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

 

স্টাফ রিপোর্টার
অপরাধে জড়িয়ে না পড়লে বাংলাদেশিদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শ্রমবাজার আরো বড় পরিসরে খুলে দেওয়া সম্ভব ছিল বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি।

গত ১৮ এপ্রিল একটি সমঝোতা স্মারক সাক্ষরের মধ্য দিয়ে আরব আমিরাতের সেই শ্রম বাজারটি আবারো সৃষ্টি হয়েছে সীমিত পরিসরে। ১৯ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ থেকে মূলত গৃহকর্মী নেওয়া হবে আরব আমিরাতে।

এই উপলক্ষে আজ এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম এ কথা জানান।

নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, গত ১৮ এপ্রিল সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ব্যক্তি পর্যায়ে ১৯টি ক্যাটাগরির কর্মী নিয়োগের বিষয়টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ ও এমিরাটাইজেশন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়নে কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, ‘তদবির সেন্টার’ অর্থাৎ ‘ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের’ মাধ্যমে বাংলাদেশের কর্মীদের নিয়োগ করবে। ‘তদবির সেন্টারটি’ সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের মানবসম্পদ ও এমিরাটাইজেশন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে সরাসরি কাজ করবে। এ ব্যাপারে একটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করে পরবর্তী কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কাউকে কোনো টাকা ব্যয় করতে হবে না বলে মন্ত্রী জানান।

যে ১৯টি ক্যাটাগরির লোক নেওয়া হবে তাদের মধ্যে রয়েছেন হাউজমেইড, প্রাইভেট সেইলর, ওয়াচম্যান অ্যান্ড সিকিউরিটি গার্ড, হাউজ হোল্ড শেফার্ড, ফ্যামিলি সোফিউর, পার্কিং ভ্যালেট ওয়ার্কার্স, হাউজহোল্ড হোর্স গ্রুমার, হাউজ ফ্যালকন কেয়ারটেকার অ্যান্ড ট্রেইনার, ডোমেসটিক লেবারার, হাউজ কিপার, প্রাইভেট কোচ, প্রাইভেট টিচার, বেবি সিস্টার, হাউজহোল্ড ফার্মার, গার্ডেনার, প্রাইভেট নার্স, প্রাইভেট পিআরও, প্রাইভেট এগরিকালচার ইঞ্জিনিয়ার ও কুক।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার ও বিএমইটির মহাপরিচালক সেলিম রেজা।

মন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে কর্মী নিয়োগের সব সব বাধা দূর হয়ে যাবে। শ্রমিকদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে বড় শ্রম বাজার খুলছে না।

নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, ‘তাঁরা যদি ঝগড়াঝাটি করে একজনরে একজন চাক্কু মাইরা দেয়, এখন কূটনীতিকেরা কী করবে? বাংলাদেশের মানুষের কী ধারণা আমি জানি না, লেখাপড়ার অভাবের কারণে মনে হয় এগুলা হয়, একজনকে একজন সহ্য করতে পারে না।’

বাংলাদেশের জন্য অন্যতম একটি বড় শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত। কিন্তু সেখানকার কিছু অভ্যন্তরীণ নীতির কারণে ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজারটি এক রকম বন্ধই হয়ে যায়।

সম্মেলনে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার একটি হিসাব দেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। সচিব বলেন, ‘আমাদের যে দুর্বলতাগুলো, সে দুর্বলতাগুলো কিন্তু আমাদেরকে বারবার পিছিয়ে দেয়। ইউএইতে বর্তমানে আমাদের এক হাজার শ্রমিক হাজতে আছে। এর মধ্যে ৫৬ জন খুনের আসামি। তার মধ্যে ১৪ জন ফাঁসির আসামি। ফলে এইসব জিনিসগুলো যখন আমাদের সামনে চলে আসে, তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়গুলোকে আমাদের পক্ষে নেয় না।’

এমন পরিস্থিতিতে আরব আমিরাতের শ্রমবাজারটি পুনরায় খুলতে নানা কলাকৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে বলে জানালেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী।

নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, ‘আমি তাদের সাথে যখন মিটিং করি, তখন আমি তাকে বলছি যে ভাই, আমার দেশ থেকে লোক আনেন। কারণ সে তো সন্ধ্যার সময় মসজিদে যাবে। ফিলিপাইন থেকে আনলে মন্দিরে যাবে। তুমি কোনটা চাও? তারা রাজি হয়েছে যে, ঠিক আছে, আমরা এটাই চাই। সুতরাং এদিকে তারা ঝুঁকে পড়ছে।’

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী দুই দেশের সরকারের মাধ্যমে কিভাবে আরব আমিরাতে শ্রমিক পাঠানো হবে সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কমিটি শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে জানা যায়। এই চুক্তির ফলাফল আগামী তিন মাসের মধ্যে দেখা যাবে বলেও জানান প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী।

এর আগে কেউ যেন কোনো এজেন্সিকে টাকা না দেয় সে ব্যাপারে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয় এই সংবাদ সম্মেলন থেকে।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমাদের কর্মী কিন্তু সব সময়ই গেছে। কিন্তু নতুন ১৯ ক্যাটাগরিতে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) সই হয়েছে। আমিরাতে যাওয়ার জন্য কেউ যেন কাউকে টাকা কোনো টাকা না দেন সেই জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো।’

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ হিসেবে ঘোষণা করায় এসডিজি বাস্তবায়নে এই খাত বিরাট অবদান রাখবে। ২০১৭ সালে রেকর্ডসংখ্যক ১০ লাখ ৮ হাজার ৫২৫ জন কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ফলশ্রুতিতে ধারাবাহিকতায় বিশ্বের ১৬৫টি দেশে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত আছে। এ সময় ১৩ হাজার ৫২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিটেন্স দেশে এসেছে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৩ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯৭ জন বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত আছেন। চলতি বছর ৬০৫ জন কর্মী গেছেন। ২০১৭ সালে গেছেন ৪ হাজার ১৩৫ জন কর্মী।

গত ১৮ এপ্রিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ এবং এমিরাটাইজেশন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী নাসের আল হামলির উপস্থিতিতে বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবসম্পদ ও এমিরাটাইজেশন মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি সাইফ আহমেদ আল সুআইদি স্ব স্ব দেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষর করেন।

সূত্র : এনটিভি অনলাইন

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *